আব্দুর রশিদ নীলফামারী প্রতিবেদক ঃ- মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম পাস করার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান।
২০ শে মার্চ বৃহস্পতিবার নীলফামারী চৌরঙ্গী মোড়ে সকাল ১১ ঘটিকায় মানববন্ধন করেন মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গনশিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং সাধারণ কেয়ারটেকার ও মডেল কেয়ারটেকারগণ। মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ নিলফামারী জেলা সভাপতি মাও নুরুন্নবী বলেন “মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম” প্রকল্পটি ১৯৯৩ সাল হতে চালু হয়ে ৭ম পর্যায় পর্যন্ত গত ৩১-১২-২০২৪ ইং পর্যন্ত অত্যন্ত সুনামের সাথে প্রতিটি পর্যায়ে পাঠদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যাহার শিক্ষা কার্যক্রমসহ সকল কার্যক্রম এখন পর্যন্ত চালু রয়েছে যা ইতিমধ্যে সকলের প্রশংসা ও জনমনে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সর্ববৃহৎ গুরুত্বপূর্ণ ও জননন্দিত “মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম” প্রকল্পে নিয়োজিত শিক্ষক শিক্ষিকাগণ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে পাঠদান করে শিক্ষার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বিস্তার ও কোর্স সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ ভর্তি, স্বাক্ষরতার হার বৃদ্ধি, সহিহ ভাবে পবিত্র কোরআন শিক্ষা পাঠদান, বাল্য বিবাহ, মাদক, সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে সরকার গৃহীত প্রতিটি কর্মসূচী বাস্তবায়নে ও সামাজিক সমস্যাবলী নিরসনে সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রাক-প্রাথমিক, সহজ কোরআন শিক্ষা ও বয়স্ক শিক্ষাসহ সারা দেশে মোট ৭৩,৭৬৮টি শিক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মাধ্যমে প্রতিবছর ২৪,১৪,২০০ (চব্বিশ লক্ষ চৌদ্দ হাজার দুইশত) জন শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করে আসছে।
উক্ত প্রকল্পের সুবিধাভোগী সমাজের অবহেলিত, দরিদ্র ও নিরক্ষর জনগোষ্ঠী এবং কর্মরত মসজিদের ইমাম, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মানবিক দিক বিবেচনা করে সুখী, সমৃদ্ধশালী বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে জাতীয় স্বার্থে এই জননন্দিত প্রকল্পটিকে আউটসোর্সিং এর আওতাভূক্ত না করে পবিত্র রমজান মাসের মধ্যে নতুনভাবে “নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম” (৮ম পর্যায়) প্রকল্পটি পাস এবং ঈদুল ফিতরের পূর্বেই সকল জনবলের বকেয়া বেতন পরিশোধ করাসহ প্রকল্পটি স্থায়ীকরণে জোর দাবি জানান।
মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদ নীলফামারী জেলার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা রফিকুল ইসলাম প্রকল্প সম্পর্কে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন প্রথম দফা মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্প মাহে রমজানের মধ্যে অনুমোদন করতে হবে। দ্বিতীয় দফা বেতন বৃদ্ধি সহ ঈদুল ফিতরের পূর্বে বকেয়া বেতন ও বোনাস প্রদান করতে হবে। তৃতীয় দফা প্রকল্প স্থায়ী করণ করতে হবে আউট সোর্সিং এ দেওয়া যাবে না। চতুর্থ দফা শিক্ষক-শিক্ষিকাগণের প্রয়োজনে কেন্দ্র স্থানান্তর এর সুযেগ প্রাদান করতে হবে। পঞ্চম দফা শিক্ষক-শিক্ষিকাগণ অসুস্থ কিংবা মৃত্যু বরণ করলে শিক্ষক তহবিল গঠন করে এককালীন অর্থ প্রদান করতে হবে।
গণশিক্ষার শিক্ষিকা তফুরা বেগম বলেন তিন মাস যাবত সম্মানী ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে গণশিক্ষার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কেয়ারটেকারগণ পবিত্র ঈদুল ফিতরে পরিবার-পরিজনের জন্য কেনাকাটা করতে পারেননি।
মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নায়িরুজ্জামান এর মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন নীলফামারী জেলার গণশিক্ষা কার্যক্রমের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কেয়ারটেকারগন।