1. bushrasahittyabd@gmail.com : বুশরা সাহিত্য ম্যাগাজিন : বুশরা সাহিত্য ম্যাগাজিন
  2. info@www.pratidineralo.live : প্রতিদিনের আলো :
বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৩ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা নীলফামারীতে সার্বিক নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের চেকপোস্ট চট্টগ্রাম জেলা শাখার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা,আমজনতার দল ছিন্নমূল মানুষের মাঝে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির ইফতার বিতরণ চট্টগ্রামের ইপিজেড থানা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছরের আইন সংশোধনের দাবি হাজারী গলী মহল্লা কমিটির উদ্যোগে ইফতার পার্টি সম্পন্ন ঢাকা ঐতিহ্যবাহী যুব ফাউন্ডেশনের দোয়া ও ইফতার মাহফিল মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান পৃথক ঘটনায় চার কিশোরী ধর্ষণের শিকার

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছরের আইন সংশোধনের দাবি

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ মার্চ, ২০২৫
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ- বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের শাস্তি সর্বোচ্চ ৭ বছর! আইন সংশোধনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে পুরুষ অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন এইড ফর মেন ফাউন্ডেশন।

 

আজ ২৫/০৩/২০২৫, মঙ্গলবার, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্ট অসোসিয়েশন (ক্র্যাব) ৮/৪-এ সেগুনবাগিচা, ঢাকা ১০০০ এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ।

 

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক ধর্ষণ নয়, ব্যভিচার। বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক শুধুমাত্র পুরুষের জন্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ: ন্যায়বিচার পরিপন্থি। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধান অতিথি, ডি এম সরকার (সাবেক জেলা ও দায়রা জজ, উপদেস্টা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা)। এছাড়াও এইড ফর মেনে ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক: সাইফুল ইসলাম নাদিম, আইন উপদেষ্টা এডভোকেট ইশরাত হাসান ( সুপ্রিম কোর্ট)। ঢাকা জেলা কমিটির সহ-সভাপতি: ইফতেখার হোসেন, সদস্য: আমিনুল ইসলাম, ইয়াসির আরাফাত ও সোনারগাঁও উপজেলার সভাপতি : সাংবাদিক শাহ জালাল, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন খোকন প্রমুখ।

 

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি সাবেক জেলা ও দায়রা জজ, ডি এম সরকার বলেন, বাস্তবে নারী নির্যাতনের ২% মামলা রায় হয় বাকী ৯৮% প্রমান ই হয় না। এছাড়াও উনি পবিত্র কুরআনে আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, পবিত্র আল কুরআনে ব্যাভিচারি নারী – পুরুষ উভয়ের শাস্তির বিধান আছে অথচ বর্তমান আইনটি শরীয়া পরিপন্থী যেখানে শুধু মাত্র পুরুষদের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

 

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নাদিম বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনের খসড়া আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে ২০ মার্চ। উক্ত আইনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এসেছে মর্মে পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী বিয়ের প্রলোভন দিলেই শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়বে আর এক্ষেত্রে তার পুরুষ সঙ্গীটির ৭ বছর পর্যন্ত জেল হবে। এরকম অবিবেচনামূলক বিধান কীভাবে আইন প্রণেতারা সম্মতি দিয়েছেন তা একেবারেই বোধগম্য নয়।

 

এখানে একজন নারীকে নির্বোধ, পুতুল হিসেবে বোঝানো হচ্ছে! যিনি কোনও পুরুষের প্রলোভনে পড়ে যৌন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। অথচ এ ধরনের সম্পর্কে “Contributory Participation” থাকে। রাষ্ট্র যদি চায় কেউ প্রণয়ের কিংবা শারীরিক সম্পর্কে না জড়ায়, তবে আইন করে প্রেম করা বন্ধ করে সবাইকে শাস্তির দেওয়ার ব্যবস্থা করুক। শুধু একপক্ষকে শাস্তি দেওয়া ন্যায়বিচার পরিপন্থি। আমরা মনে করি এ ধরনের সম্পর্ক ব্যভিচার তাহলে ব্যভিচারের নারী-পুরুষের দুজনের সমান শাস্তির বিধান করা হোক।

 

এইড ফর মেন ফাউন্ডেশনের আইন উপদেষ্টা এডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, অনেক প্রণয়ের সম্পর্ক নারীরাও ভেঙে দেয়। একজন নারী যদি প্রণয়ের সম্পর্কে জড়িয়ে পরবর্তীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভেঙে অন্য কোনও ব্যক্তিকে বিয়ে করেন, তবে তার পুরুষ সঙ্গীটি কি পারবেন আইনের দ্বারস্থ হয়ে উক্ত নারীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ কিংবা অন্য কোনও মামলা করতে? উত্তর হচ্ছে- ‘না’। তবে, এমন ধরনের বৈষম্যমূলক আইন কীভাবে যৌক্তিক?

 

তিনি আরো বলেন, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া বা তা রক্ষা করা একটি নৈতিক এবং সামাজিক বিষয় হতে পারে, কিন্তু তা আইনগতভাবে অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করে শুধুমাত্র প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার কারণে তা অপরাধ হিসাবে গণ্য করা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়। সম্পর্কের টানাপোড়েন, ব্যক্তিগত মতপার্থক্য বা পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে বিয়ের প্রতিশ্রুতি পূরণ না করাকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করা অযৌক্তিক এবং অসাংবিধানিক।

 

এই আইন পাস হলে সমাজে ব্ল্যাকমেইলিং বেড়ে যাবে। সমাজে হানাহানি বাড়বে। বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক একের অধিকবার হয় বা বারবার হয়। ফলে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী যখন ইচ্ছা তখন মামলা করতে পারবেন। এমনকি, প্রেম বিচ্ছেদের ১০ বছর পরেও তিনি মামলা করতে পারবেন।

 

পুরুষ শোষণের হাতিয়ার হবে এই আইন। দেখা যাচ্ছে, এই আইনের ফলে অফিসের নারী সহকর্মী তার বসের বিরুদ্ধে, নারী ক্লায়েন্ট তার আইনজীবীর বিরুদ্ধে, ছাত্রী তার শিক্ষকের বিরুদ্ধে, অর্থাৎ যেকোনও নারী এই আইনকে ব্যবহার করে আদালতে বা থানায় নারী নির্যাতনের মামলা করতে পারবে। অনেক নারী এই আইনকে টাকা আয়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবেন। কারণ নারীর পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না, প্রকাশ হবে আসামির পরিচয়। ফলে, দুষ্কৃতকারীরা আড়ালে থেকে এই মামলাকে তার উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ব্যবহার করতে পারবে। ফলে, থানায় থানায় চলতে পারে মামলা বাণিজ্য। যে কারও প্রাক্তন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে আসবে। এভাবে পুরুষ প্রজন্ম ব্ল‍্যাকমেইলের শিকার হবে, যা তাদের আরও প্রতিশোধপরায়ণ করবে এবং নারী বিদ্বেষী করবে, যা একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ ব্যবস্থার অন্তরায়।
বিডি ক্লিক এর সভাপতি, আমিনুল ইসলাম টুববুস বলেন, তদন্ত একান্ত জরুরি, তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচার ও মিথ্যে হয়রানি ও অপরাধ দমনে নারী পুরুষ শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে সুস্থ সমাজ গড়ে তোলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

 

এইড ফর মেন ফাউন্ডেশনের ঢাকা জেলা কমিটির সহ-সভাপতি ইফতেখার হোসেন বলেন, যেখানে সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক হল সেটা কিভাবে ধর্ষণ হতে পারে? অথবা সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্কে শুধু মাত্র পুরুষের শাস্তি হতে পারে এটা কেমন আইন?

পত্র পত্রিকায় আমরা দেখতে পাই বিয়ের প্রলোভনে প্রবাসী স্ত্রীকে ছয় মাস যাবত ধর্ষণ , এইখানে পুরুষটি এই নারীর সাথে প্রতারণা করেছে এটা যদি যুক্তির খাতিরে মেনেও নেই! তাহলে এই যুক্তি কেন আসে না যে এই প্রবাসীর স্ত্রী তার স্বামীর সাথে প্রতারণা করেছে, তার জন্য ঐ নারীরও শাস্তি হওয়া উচিত নয় কি? আসলে ঘটনাটা ঘটেছে পরকীয়া ওই নারী তার স্বামীকে প্রতারিত করে অন্য পুরুষের তাতে শারীরিক সম্পর্কের লিপ্ত হয়েছে যা ব্যভিচার বা পরকীয়া। এইখানে ব্যভিচার কারিণী নারীকে শাস্তির আওতায় না এনে বরং অপরাধীকেই উল্টো ভিকটিম বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যদি প্রতারণা অপরাধ হয় নারী পুরুষ উভয় প্রতারণা করেছে। শাস্তি হলে দুজনের সমান হতে হবে যা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও দুজনের সমান শাস্তির বিধানের কথা বলা আছে। কিন্তু বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের নামে আমরা দেখতে পাচ্ছি সুকৌশলে নারীর অপরাধকে শাস্তির আওতা মুক্ত রাখা হয়েছে। যার ফলে নারীরা আরও বেশি অপরাধপ্রবণ স্বেচ্ছাচারী এবং অপরদিকে পুরুষরা মিথ্যা মামলায় ভুক্তভোগী বা নির্যাতনের শিকার হয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি এই সকল মামলায় আপোসের নামে পুরুষরা সামাজিক ভাবে মানহানি ও আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

 

উপরন্তু, নারী নির্যাতনের মামলা হু হু করে বাড়বে। ২০২৫ সালে এসে, এই ধরনের আইন নাগরিক অধিকার পরিপন্থি এবং অসাংবিধানিক।

শেয়ার করুন

আরো পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট